মেয়ের বিয়েতে ‘রাজকীয়’ তোরণ বানিয়ে চমক দিলেন বাবা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৮-০৯-২০২৬ ০৩:১৭:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৯-২০২৬ ০৩:৩৮:২৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কের পাশে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী একটি বিয়ের তোরণ। বাহারি সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় লাখ টাকা খরচ করে বানানো তোরণটি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের নজর কাড়ছে। ইতোমধ্যে তোরণটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
নান্দনিক নির্মাণশৈলী জানান দিচ্ছে এই তোরণের গল্পটা অন্যরকম। কারণ, এটি কোনো গ্রাহকের জন্য তৈরি করেননি ডেকোরেশন ব্যবসায়ী নুরুল হাকিম ওরফে ‘ডেকোরেশন নুরু’। নিজের মেয়ের বিয়ের জন্য তোরণটি তৈরি করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া কুতুপালং বাজার এলাকায় ‘রাজা ডেকোরেশন’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন স্থানীয় এই ব্যবসায়ী নুরুল হাকিম এবং সে কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ডেকোরেশন নুরু’ নামেও পরিচিত। বিয়ের তোরণ, মঞ্চ, আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার কাজ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নুরুল হাকিমের মেয়ের বিয়ে। মেয়ের বিয়ের আয়োজনের অংশ হিসেবে নিজের ব্যবসার ডেকোরেশন সামগ্রী ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তোরণটি তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে নকশা থেকে শুরু করে কাঠামো, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ নিজেই তদারক করেছেন।
আদরের মেয়ে সাজিয়া আফ্রিন তানিয়ার বিয়ের জন্য তোরণটি তৈরি করতে নুরুল হাকিমের সময় লেগেছে টানা সাত দিন। অন্যের বিয়েতে যেসব তোরণ ও মঞ্চ তৈরি করেন, এবার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছেন নিজের মেয়ের অনুষ্ঠানে।
নুরুল হাকিম বলেন, ডেকোরেশন আমার পেশা। প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষের বিয়ে ও অনুষ্ঠানের জন্য সাজসজ্জার কাজ করি, মেয়ের বিয়ে তাই চিন্তা করলাম এমন ব্যতিক্রম কিছু করি যেন সে মানুষের দোয়া পায় এবং সংসার জীবনে সুখী হয়।
নিজের মেয়ের বিয়েতে নতুন করে বড় ধরনের ডেকোরেশন সামগ্রী কেনার পরিবর্তে ব্যবসায় থাকা সামগ্রী ও নিজের দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়েছেন নুরু। তার বক্তব্য, একজন বাবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করবেন—এটাই স্বাভাবিক।
মহাসড়কের পাশে হওয়ায় তোরণটি স্থানীয়দের পাশাপাশি চলাচলকারী মানুষেরও নজরে পড়ছে। অনেকে তোরণটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। তবে তোরণটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসার পাশাপাশি আয়োজনের ব্যয় ও আড়ম্বর নিয়েও নানা মন্তব্য এসেছে।
এ বিষয়ে রাজপালং ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, নুরুল হাকিম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডেকোরেশন ব্যবসা করছেন। নিজের ব্যবসা ও উপার্জনের অর্থ দিয়ে মেয়ের বিয়েতে আয়োজন করেছেন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ ব্যয় করায় নেতিবাচক কিছু দেখার কারণ নেই।
স্থানীয়রা বলছেন, কুতুপালং গ্রামে এত বিশালকৃতির ব্যয়বহুল তোরণ এর আগে কখনোই দেখা যায়নি।
স্কুল শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, নুরুল হাকিমের জন্য তোরণ বানানো নতুন কোনো কাজ নয়। বছরের পর বছর অন্যের বিয়ের জন্য তোরণ তৈরি করেছেন তিনি। এবার সেই একই কাজের জায়গায় ছিল নিজের মেয়ে। পার্থক্য শুধু এতটুকুই—এবার কাজটি পেশার পাশাপাশি পারিবারিক একটি আয়োজনের অংশ।
সাত দিনের শ্রমে তৈরি তোরণটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে খুলে নেওয়া হবে বলে জানান নুরুল হাকিম।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স